ধূপ ধোঁয়াশা সমুদ্রতীরের কাব্যগ্রন্থ

জনাব আফজালুল বাসার, রিটায়ার্ড – ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড এ কর্মরত ছিলেন বহুবছর। তিনি ইতোমধ্যেই ৩৭ টিরও বেশী বই লিখেছেন। তিনটি কাব্যগ্রন্থ চিন্তামুলক অনেকগুলো মৌলিক প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
বেশ অনেকগুলো গ্রন্থ ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। বহু পত্র পত্রিকায় গ্রন্থাবলী সম্পাদনা ও উপদেশনা করেছেন। এছাড়াও শিশুতোষ: আহসানের ছড়া ও গান গ্রন্থ রচয়িতা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলি মধ্যে অন্যতম।

বাঙ্গালীর অক্ষ্যর, বাঙ্গালীর স্বদেশ ও সংস্কৃতির অনুশীলন, অক্ষরপুরুষ তাঁর মুল কিছু প্রবন্ধ। এক কথায় লেখক বাঙ্গালীর নতুন সাহিত্য ও সংস্কৃতিচিন্তার উদ্ভাবক এবং অগ্রপথিক, চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, সম্পাদক, কবি ও শিল্প সাহিত্য।

সমুদ্রতীর একটি আর্কিটাইপ। ধূপ ধোঁয়াশা সমুদ্রতীরের কাব্যগ্রন্থ কাব্যগ্রন্থটি যেন ঐ আর্কিটাইপের কিছু অনুভূতির দ্যোতনা। The History of Huyy ibn yagsan by abu …. ibn Tufail (1105-1185)স্প্যানিশ সমুদ্র তীরের পাশে এক জনশূন্যদীপে হাইই ইবনে ইয়াগ জানকে নিক্ষেপ করা যায়। শিশুকালে পরীক্ষা করে দেখতে যে, তার মধ্যে ………. প্রবেশ করে কী না। একা হয়েও হাইই আবিষ্কার করে জীবন আছে, আগুন আছে ইত্যাদি শাশ্বত সত্যগুলি। সমুদ্রতীরের নির্জন দ্বীপের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের এই আবিষ্কার এখান থেকেই প্রসাদ, মোগলি, রবিনসন ক্রুসো এমনকি সিন্দাবাদের কাহিনীগুলোও আর এসেছে জ্ঞানের ঠিকানার ধারায় অভিজ্ঞতাবাদের অবদান। সমুদ্রতীর যাচ্ছে অভিজ্ঞতা দুহিতব। এই কারণে আমি এক একটি আদি প্রতীক হিসেবে নিয়ে কথা বলা শুরু করেছি।

আজকে আলোচ্য কাব্য গ্রন্থ ধূপ ধোঁয়াশার কবির চিন্তামূল গুলি যেন উৎসারিত হয়েছে পাহাড় আর সমুদ্র থেকে তাঁর অনেকগুলি কবিতায় যেমন অন্যভূবন, অস্তিত্ব, গোলাপী ডলফিন, একটি মাছ, সিনসিয়া- ২, কেওক্রাডং ভর, কবিতার দেশে ইত্যাদি। তিনি জীবনসমুদ্রের তীরে দাড়িয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তা-প্রকাশ করেছেন তার কাজে। তার মূল কথাটি হচ্ছে কবির ভাষায় :

তোফায়েলের এই দর্শন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে লিখেছেন জনলোক, লাইবনিজ, সিনেহাসহ আরও অনেকে।

কে দেখি লাইট হাইজিংয়ে উড়ে যায় গাং চিল অদূরে আমি দেখি না তাহারে, ভেসে যাই বাতাসে বাতাসে নব যুগের নব নাবিকের বেশে, পেছনে ফেলে দ্বিধাখার ভালবাসা; প্রেম, অভিমান আর জল;জেগে মৃত্যু ঘুম থেকে আসি; কবিতার দেশে।

(কবিতার দেশে, পৃ-৬০)

এমন না যে তিনি শুধু সমুদ্র নিয়েই কারবার সেরেছেন। ঐ যে বলেছেন প্রেম, অভিমান আর হল, দ্বিধা আর ভালবাসা এসবের মধ্যে চলে এসেছে চায়ের টেবিল, নাগরিক জীবন, ভালভালাই গুড সময়, গার্মেন্টস কর্মী, মুক্তিযুদ্ধ, গণপ্রজাতন্ত্রী ফুল আর বৃষ্টি আরও অনেক কিছু।

আমি সমুদ্রতীর দিয়ে শুরু করেছিলাম। এই সমুদ্র এলেই আমার চোখের সামনে ভাসে রবীন্দ্রনাথের দেবতার গ্রাস এবং জীবনে শেষ প্রান্তে লেখা প্রশ্ন কবিতার কথা। অসাধারণ জীবন নাট্যের প্রতিচ্ছবি আছে দেবতার গ্রাসে যার দেবাসংহার রয়েছে প্রশ্ন কবিতায়।

প্রথম দিনের সূর্য

প্রশ্ন করেছিল

সত্তার নতুন আবির্ভাবে,

কে তুমি-

মেলেনি উত্তর

বৎসর বৎসর চলে গেল,

দিবসের শেষ সূর্য

শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিম সাগর তীরে,

……… সন্ধ্যায়

কে তুমি

পেল না উত্তর

জীবনের বহমানতা এবং আত্মজিজ্ঞাসার শেষহীনতা নিয়ে রবি ঠাকুর খুব সম্ভব তার জীবনের মর্মাবলী এখানে লিখে গেছেন। তাদের বিত্তলোকের সব ধনাঢ্য মহাজনের এই কবিতা দিয়ে অনেক কথা লিখেছেন। থাক সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে জীবনকে উপলব্ধি করেছিলেন আমাদের কাব্য হাতে প্রবাদ পুরুষ নির্মলেন্দু গুন ।সেই কালে ১৯৭৫-৭৬ এর দিকে আমরা তাকে নিয়ে অনেক মাতামাতি করেছিলাম। তাঁর কবিতা অমীমাংসিত রমধাকে ধরতে চেষ্টা করেছিলাম।

ভড়েদি হলে আমি দীর্ঘ হয়ে যাই

শীতে মড়ার মতো শক্ত হয়ে যাই।

এই শক্ত পদার্থটি প্রয়োজনীয় বটে মানবজাতীর কারন সেখানে স্বয়ং কিসের প্রজন্মযন্ত্র উপস্থিত। অতঃপর সমুদ্রতীরে শিবনেত্র থেকে বের হয়ে এলো কী? না

তীরের তরে এসে বলে যায় সমুদ্রের কানে

সব প্রেম ফিরে পাবে। কিছু হারাবে না।

নূর হোসেন আল কাদেরীও ফিরে পেয়েছেন তাঁর লাইট হাউজ। কিন্তু কি করে ফেরৎ পাবে সে কথাও লিখেছেন কবি নির্মলেন্দু গুন –

হাদ্দারয় উড়ুক চুল

মলোচ্ছাসে দেহের বল্কল

থেকে এলোমেলো।

অন্তহীন অপেক্ষার শেষে

না হয় সমুদ্র আজ

তোমাকেই খুঁজে পেলো।

অপস্মৃত আবরণে

সৈকতের নির্জন সন্ধ্যায়।

ভূলে যাও তীরে দর্শক

মনে কর কেউ নেই

সমস্ত সমুদ্র জুড়ে তুমি

একা, নগ্ন, অনাবৃতা।

(নির্মলেন্দু গুন)

এই যে, Unveiled Staved raked অবস্থা, একে কিন্তু আবু সায়ীদ আইয়ুব এবং কধে পল্লী

কবীরজনক বলেছেন অসহ্য অবস্থা সহ্য করা যায় না। নিরাধরম সত্যকে সহ্য করা কঠিন। এ কারণে কিছু আবরণ দরকার হয়। আবৃত অনাবৃত্তের এই চিন্তাকে রবীন্দ্র কাজের ভিয়েনে ব্যাখ্যা করেছেন আবু সায়ীদ আইয়ুব। তার …………… প্রবন্ধে।

যা আমারও ফেরত আসি ধূপ ধোঁয়াশায় এখানে এই এমন কবি, তাঁর প্রথম কাব্যে জীবনের অনেক ভাড়ার শেষ করে এসে লাইট হাইসের মঞ্জানে লিপ্ত। ইবনে তোফায়েল শুরু করে, নূর হোসেন আল কাদেরী পর্যন্ত সকলেই সমুদ্রের জুড়ে চলেছিলো। তিনি জীবনের অনেক প্রশ্ন খুজেছিলেন। অনেক ঘাটের জল পান করে সমুদ্রের সাথে নিজের চিন্তা প্রকাশের চিত্র অন্বেষণ করেছেন। নতুন নতুন বাক-বিতন্ডা এবং চিত্র কল্প আমাদের সামনে উপস্থিত করেছেন। রঙ্গের পথভুলে তার ওই অভিযাত্রা সফল হবে এই কামনা করছি।

বাঙ্গালা ……….. এবং হালদা ভ্যালী মিলিতভাবে ধূপ ধোঁয়াশা সমুদ্রতীরের কাব্যগ্রন্থ কাব্য গ্রন্থ প্রজন্ম করেছে। হালদা ভ্যালী কর্ম.. জনাব শামীম খানের ঐকান্তিক আগ্রহ তিনজন কবি ও শিল্পী শিল্প সাহিত্য জনের মিলিত রূপ এই কাব্য গ্রন্থ এবং শিল্প প্রদর্শনী। একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এই শুভবাদী উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

৩০টি কবিতার সাথে ২৯টি শিল্পকর্মের সামুজ্যপ্রার্থী একটি সংকলন এটি। কবিতাগুলির রচয়িতা নূর হোসেন আল কাদেরী আর শিল্প কর্মগুলি তৈরী করেছেন লুৎফুন্নেসা নীপা এবং নুমাত তাবাসসুম বিন্তি।শিল্পী নীলা মন খারাপ করার মত সুন্দর পরিবেশ এবং নুমাত ‘কবিতাকে ছবির মাধ্যমে ভাষ্য’ করার পটভূমির শিল্পরূপ প্রদানের চেষ্টা করেছেন। এমন প্রচেষ্টা বরাবরই একে অন্যকে নিজের মাধ্যমে নিয়ে আসতে ব্যাকুল হয়। কিন্তু মাধ্যমসহ শক্তি ও সীমানার জালে তারু নিজেদের অনুশীলন করতে বাধ্য হন। এমত পরিস্থিতিতে দু’জন শিল্পীর বেশ কিছু অসাধারণ চিত্র কর্ম আমরা পেয়েছি। সে জন্য উভয় শিল্পীকে জানাই অভিনন্দন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.